মালয়েশিয়ায় আরিফুল ইসলাম (২৬) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত আন্তঃদেশীয় অপহরণকারী চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য রবিউল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ও তার সঙ্গীয় ফোর্স ওই অভিযান পরিচালনা করেন। বর্তমানে আসামি রবিউল শেরপুর সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম বগুড়া জেলার গাবতলি উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই এস আই এনামুল হক সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার মামলা। গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। বুধবার তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মামলা ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর কান্দিপাড়া গ্রামের মো. আবুল হাসেমের পুত্র ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা এবং মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মালয়েশিয়ার জহুরবারু এলাকায় আরিফুলের রেস্টুরেন্টে গিয়ে ৩ জন অপরিচিত লোক রেস্টুরেন্টে সুলভ মূল্যে মাংস দেওয়ার কথা বলে খামারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর তাকে খামারে না নিয়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা মালয়েশিয়ান সাড়ে ১৩ হাজার রিংগিট ও এটিএমে থাকা ১ হাজার রিংগিট এবং ১৪০০ রিংগিট মূল্যের একটি উন্নত স্মার্টফোন নিয়ে নেয়, যা বাংলাদেশী টাকায় মোট ৪ লাখ ৯২ হাজার ৯শ। এরপরও আরিফুলের কাছে আরও ৭ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।
আরিফুল প্রাণের ভয়ে নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশে ফোন দিয়ে তার মা-বাবার কাছ থেকে ১ লাখ এবং ঢাকায় অবস্থানরত মামা সাংবাদিক মোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে আরও ৪ লাখ টাকা একটি ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে নিয়ে নেয়। এর দীর্ঘ ৮ ঘন্টা পর অপহরণকারীরা আরিফুলকে মুক্তি দেয়। কিন্তু আরিফুল প্রাণের ভয়ে প্রবাসে তা প্রকাশ করেনি বা আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করেনি। ৮ মার্চ তিনি দেশে ফিরে এলে মামা মোফাজ্জলের সহযোগিতায় তালাশ অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হন, যে বিকাশ এবং ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা গ্রহণ করা হয়েছে তা ইসলামী ব্যাংক গাবতলী শাখার আসামি রবিউল ইসলামের নামীয়। সেইসাথে আরও জানতে পারে যে, মালয়েশিয়াতে রবিউলের ২ ভাই অবস্থান করেন।
এদিকে ওই ঘটনায় আরিফুল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে রবিউল ইসলামকে স্বনামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করে গত ৮ এপ্রিল শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে দঃবিঃ ৪২০/৩৬৪(ক)/৩৮৬/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় একটি নালিশী মামলা দায়ের করলে আদালতের বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এরপর মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হলে তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এস আই এনামুল হক সিদ্দিকী তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিউল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাবতলী পুলিশের সহায়তায় অভিযানে নামে।

